বাগেরহাট সদর, শরণখোলা ও রামপাল উপজেলায় মাঠজুড়ে চিংড়ি ঘের। লবণাক্ত এই এলাকায় ফসল উৎপাদন এক সময় ছিল কল্পনারও বাইরে। সেই কল্পনা রূপ নিয়েছে বাস্তবে। লবণাক্ত জমিতেই ফলছে রেড বিট, ফুলকপি, টম্যাটোসহ নানা সবজি। কোস্টস প্রকল্পের আওতায় জেলা কৃষি বিভাগ বিনামূল্যে লবণসহিষ্ণু সবজি বীজ, ফেরমন ফাঁদসহ সরবরাহ করেছে নানা উপকরণ। লবণাক্ত প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমিতে কৃষক ফলিয়েছেন শীতকালীন সবজি। ফলনও হয়েছে বাম্পার। হাসি ফুটেছে কৃষকদের মুখে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শংকর কুমার মজুমদার জানান, বাংলাদেশ মৃত্তিকা সম্পদ ইনস্টিটিউটের সবশেষ জরিপ অনুযায়ী বাগেরহাটসহ উপকূলের ১৮ জেলার ৯৩টি উপজেলায় লবণাক্ত জমি ২৩ হাজার হেক্টর। লবণাক্ত উপজেলার তালিকায় আছে বাগেরহাটের রামপাল। এখানে মাটির লবণাক্ততার পরিমাণ ১০ ডিএস হয়ে যায়। জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সাগরের লোনাপানি উপকূলীয় এলাকার ফসলি জমি আরও লবণাক্ত করে তোলে। অনুপযোগী হয়ে পড়ে চাষের। অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আনতে সদর, শরণখোলা ও রামপাল উপজেলায় ২ হাজার ৫০০ কৃষককে দেওয়া হয় প্রশিক্ষণ। কোস্টস প্রকল্পের আওতায় কৃষি বিভাগ বিনামূল্যে লবণসহিষ্ণু সবজি বীজ, ফেরমন ফাঁদসহ নানা উপকরণ সরবরাহ করায় চলতি শীত মৌসুমে প্রায় ১ হাজার হেক্টর অনাবাদি জমিতে আবাদ হয়েছে সবজি। আগামীতে মোংলা ও মোরেলগঞ্জ উপজেলার লবণাক্ত অনাবাদি জমিতে সব ধরনের সবজি উৎপাদনে কৃষকদের প্রশিক্ষণসহ বিনামূল্যে উপকরণ দেওয়া হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা। রামপাল উপজেলার বাসেরহুলা গ্রামের কৃষাণি উমা রায় জানান, তাদের এলাকায় তীব্র লবণাক্ততার কারণে চিংড়ি চাষ ছাড়া কিছুই হতো না। উঁচু জমিও লবণাক্ততার জন্য বছরের পর বছর অনাবাদি পড়ে থাকত। চলতি শীত মৌসুমে তার ৭০ শতাংশ জমিতে রেড বিট, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টম্যাটোসহ নানা সবজির চাষ করে বাম্পার ফলন পেয়েছেন। তার মতো এই গ্রামের অনেক নারী-পুরুষ অনাবাদি জমিতে বিভিন্ন জাতের সবজি আবাদ করছেন।