আইন পাসের প্রায় দুই যুগেও কার্যক্রম শুরু হয়নি বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের। অজ্ঞাত কারণে দীর্ঘদিন ধরে থমকে আছে সবকিছু। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ভিসি নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কয়েকজন অধ্যাপকের জীবনবৃত্তান্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখায় জমাও পড়েছিল। শেষ মুহূর্তে শিক্ষা উপদেষ্টার এক চিঠির কারণে সে কার্যক্রমও থমকে গেছে। ২০০১ সালের ১৫ জুলাই জাতীয় সংসদে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস হয়। এখনো কোনো কার্যক্রমই শুরু হয়নি। আওয়ামী লীগের প্রায় ১৬ বছরের শাসনামলে বঞ্চিত ছিল বগুড়া-এ গ্লানি থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি দিতে অবিলম্বে এখানে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরুর দাবি জেলাবাসীর। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আইন পাস হওয়া নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষাকার্যক্রম কিংবা ভিসি নিয়োগের বিষয়টি আপাতত স্থগিত রাখতে চিঠি দিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগ জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের এ মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয় করার মতো বড় তহবিল নেই। নির্বাচিত সরকার ছাড়া বড় বাজেটের কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়। বগুড়ার মতো শিক্ষানগরীতে নেই কোনো বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি সিটি করপোরেশন, রেলপথ এবং বিভাগের দাবি জানিয়েছে জেলাবাসী।
দীর্ঘদিন ধরে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম স্থগিত থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সাধারণ মানুষ। তারা বলছে, আওয়ামী লীগ সরকার আমলে নানাভাবে বঞ্চনার শিকার হয়েছে বগুড়াবাসী। সে ধারা এখনো অব্যাহত রয়েছে। বগুড়া, নওগাঁ ও জয়পুরহাটের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এ অঞ্চলে একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হবে। দেরিতে হলেও প্রায় দুই যুগ আগে জাতীয় সংসদে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ পাস হয়। অজ্ঞাত কারণে কার্যক্রম আজও শুরু হয়নি। বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ভিপি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বগুড়ার মতো শিক্ষানগরীতে বিশ্ববিদ্যালয় নেই এটি সবাইকে পীড়া দেয়। বগুড়ার স্কুল-কলেজ একাধিকবার রাজশাহী বোর্ডে সেরা হয়েছে। এখানকার ছেলেমেয়েরা দেশসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে। অথচ আমাদের এখানে বিশ্ববিদ্যালয় নেই!’
২০২৩ সালের ১০ মে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন বাস্তবায়নের জন্য সরকার এসআরও জারি করে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৯ অক্টোবর জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজা বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে চিঠি পাঠান।