নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আদমজী ইপিজেডে গার্মেন্ট ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির দুটি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ, আটটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উভয় পক্ষের ২০ জন আহত হন। গতকাল বিকালে সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী মুনলাইট এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, আদমজী ইপিজেডের ইউনিভার্সেল নামের একটি গার্মেন্টসের ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাকিবুর রহমান সাগর এবং বিএনপি নেতা মনির হোসেনের সহযোগীদের মধ্যে দুপুরে ঝামেলা সৃষ্টি হয়। তখন মনির হোসেনের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা ইপিজেডের ভিতরে মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক মানিক ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক মোহনকে কুপিয়ে জখম করে ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির নেতা মনির হোসেনের নেতৃত্বে আসা লোকজন। এরই জেরে বিকালে উভয় পক্ষের মধ্যে গুলিবর্ষণসহ ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের সময়ে স্থানীয় সাংবাদিক তোফাজ্জল হোসেন এবং নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সহসভাপতি আরিফ হোসেন, মাহবুব, সবুজ, শহীদ, রাসেল (২৬), রবিউল (২৪), সোহাগ (২৬, আরমান (২৩), ফাহিম (২৯) বাবু (২৮), ইব্রাহিম (৩০) ইকবাল (২৮) ও জনিসহ (২৬) উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়। এ ছাড়া সকালের সময় পত্রিকার সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি জাকির হোসেনের মোটরসাইকেলসহ আটটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এ সময় আরও ছয়টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সভাপতি রাকিবুর রহমান সাগর জানান, দুপুরে হঠাৎ করে আদমজী ইপিজেড অভ্যন্তরে মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক মানিক ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক মোহনকে কুপিয়ে জখম করে ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির নেতা মনির হোসেনের নেতৃত্বে রুহুল আমিন, বাবু, মাইচ্ছা মানিক, বুইট্টা রনি, পাগলা মিজান, সম্রাট জালাল উদ্দিন (পাগলা জালাল), দুলাল, সালাউদ্দিন ও খোকন ২০-২৫ লোকজন। পরে তাদের উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার খবর পেয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে আদমজী মুনলাইট এলাকায় জড়ো হলে সেখানে গিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করে। আমাদের ছাত্রদলের ছেলেদের কয়েকটি মোটরসাইকেলে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় মনিরের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে কয়েকটি দোকানে হামলা করে লুটপাট করে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন জানান, ছাত্রদল নেতা সাগর ৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে এসে ৬ নম্বর ওয়ার্ডে আদমজী ইপিজেডে কমপক্ষে ১৪-১৫টি ফ্যাক্টরিতে ব্যবসা করে। আমাদের লোকজন কোনো ফ্যাক্টরিতে গেলে তার লোকজন বাধা দেয়। গতকালও একটি ফ্যাক্টরিতে টিস্যু পেপার সরবরাহ করতে গেলে আমাদের লোকজনের ওপর হামলা করে। আমরা ছাত্রদলের লোকজনের ওপর হামলা করিনি। ছাত্রদল নেতা সাগরের ফুফাতো ভাই সোহাগ অস্ত্র হাতে আমাদের ওপর গুলি করেছে। এতে রাসেল (২৬), রবিউল (২৪), সোহাগ (২৬, আরমান (২৩), ফাহিম (২৯) বাবু (২৮), ইব্রাহিম (৩০) ইকবাল (২৮) ও জনিসহ (২৬) ১৫-২০ আহত হয়েছে। এদিকে আহত গণমাধ্যম কর্মীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সহকর্মী মোস্তাক শাওন বলেন, তোফাজ্জলের অবস্থা ভালো না। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনূর আলম জানান, আদমজী ইপিজেডের ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুটি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। যৌথ বাহিনীসহ আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছি।