এক. ঢাকা থেকে রাজশাহী ফিরছিলেন আতাউর রহমান। আসনের টিকিট না পেয়ে তিনি দাঁড়িয়ে থাকার টিকিট কেনেন। সিল্কসিটি ট্রেনে ওঠার পর ট্রেন পরিচালক ও গার্ডদের জানান, আসন ফাঁকা থাকলে তাকে যেন দেওয়া হয়। কিন্তু কিছুদূর আসার পর আতাউর দেখতে পান, বগিতে আসন ফাঁকা আছে। সেগুলো বসার সুযোগ পাচ্ছেন বিনা টিকিটে ওঠা যাত্রীরা। বিনিময়ে গার্ডদের টাকা দিতে হচ্ছে। এনিয়ে প্রতিবাদ করলে তাকে দুই দফায় মারধর করা হয়।
দুই. রাজশাহী থেকে ছেড়ে যাওয়া ঢালার চর এক্সপ্রেস ট্রেনে টিকিট কেটে ওঠেন কলেজ শিক্ষক আমিরুল ইসলাম। ‘ছ’ বগিতে ছিল তার আসন। বগিতে ওঠার পর দেখতে পান তার আসনে অন্য কেউ বসে আছেন। তিনি নিজেই টিকিট চাইলে ওই যাত্রী দেখিয়ে দেন অ্যাটেনডেন্টকে। বাকবিতন্ডার পর আসনটিতে বসতে পারেন তিনি।
শুধু ওই দুটি ঘটনা নয়, পশ্চিমাঞ্চল রেলে চলছে বিনা টিকিটের যাত্রীদের ব্যবহার করে রমরমা বাণিজ্য। রাজশাহী থেকে ছেড়ে যাওয়া সব আন্তনগর ট্রেনের পাওয়ার কারে চলছে টিকিটবিহীন যাত্রী পরিবহন। এজন্য রেলওয়ে পুলিশ ও রেলের অ্যাটেনডেন্ট মিলে গড়ে তুলেছে সিন্ডিকেট। এ সিন্ডিকেটে আছেন আরএনবির কবির ও নুর সালাম (অব.), পে-অপারেটর ইশতিয়াক, ইয়াসিন, ইব্রাহীম, চপল, সুজন, কনক, রফিক, টিটো ও শাহীন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি এক সেনাসদস্যকে মারধর করে চক্রটি। এর পরই যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে ওই চক্রের তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
‘রেলওয়ে জেনারেল ম্যানেজার ওয়েস্ট-বাংলাদেশ রেলওয়ে’ ফেসবুক পেজে নিয়মিত বিভিন্ন ট্রেনের অভিযানে বিনা টিকিটের যাত্রীদের পরিসংখ্যান ও জরিমানার চিত্র তুলে ধরা হতো। পশ্চিমাঞ্চল রেলের তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক অসীম কুমার তালুকদার অবসরে যাওয়ার পর পেজটি আর আপডেট হয়নি। তার সময়ে থাকা তথ্য বলছে, গড়ে প্রতিটি ট্রেনে ১৬০-২০০ জন যাত্রী বিনা টিকিটে ভ্রমণের জন্য উঠেছেন। এর মধ্যে তারা অভিযান চালিয়ে কিছু যাত্রীর কাছ থেকে জরিমানা আদায় করেছেন। বিশেষ করে খুলনা, লালমনিরহাটের দিকে চলাচলকারী ট্রেনগুলোতে বিনা টিকিটের যাত্রী বেশি।
অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অসীম কুমার তালুকদার জানান, বগিতে টিকিট তল্লাশির দায়িত্বে যারা থাকেন, তারাই মূলত বিনা টিকিটের যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নেন। অনেকে টিকিট সংগ্রহের সময় পান না। এদিকে, বিনা টিকিটের যাত্রীদের ব্যবহার করে বাণিজ্য প্রসঙ্গে পশ্চিমাঞ্চল রেলের মহাব্যবস্থাপক মামুনুল হক বলেন, ‘আমরা আগে থেকেই বিনা টিকিটের যাত্রীদের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করছি। এ ছাড়া এখন আরও বেশি করে তল্লাশি হচ্ছে। বিনা টিকিটের এ বাণিজ্য বন্ধ করতে এখন আমরা কঠোর অবস্থানে আছি।’