চট্টগ্রামে এখনো সরকারি পাঠ্যবই নিয়ে বসতে পারেনি শিক্ষার্থীরা। প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক সবখানে এখনো পৌঁছেনি শতভাগ বই। যার কারণে এখনো শুরু হয়নি ক্লাস। চট্টগ্রামে প্রাথমিকে চাহিদার বই এসেছে ৬০ শতাংশ এবং মাধ্যমিকে মাত্র সাড়ে ১৮ শতাংশ। বছরের এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো বই না পাওয়াতে হতাশ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে সব বই পেয়ে যাবে শিক্ষার্থীরা। পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে বই পেতে দেরি হচ্ছে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এস এম আবদুর রহমান বলেন, চট্টগ্রামে প্রাথমিক স্তরের চাহিদার ৬০ শতাংশ বই চলে এসেছে। আমরা আশা করছি জানুয়ারির মধ্যে সব বই চলে আসবে। ফেব্রুয়ারিতে শিক্ষার্থীরা সব বই হাতে পাবে। তবে এখনো চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির বইয়ের সংকট রয়েছে। মূল বিষয় বাংলা, ইংরেজি, গণিত চলে আসছে। তবে এ দুই শ্রেণির বিজ্ঞান, সমাজ, ধর্ম এ তিনটা বই কম এসেছে।
চট্টগ্রাম জেলা শিক্ষা অফিসার উত্তম খীসা বলেন, এ বছর বইয়ের চাহিদা এক কোটি ৭৪ লাখ। ইতোমধ্যে ৩২ লাখ বই এসেছে, প্রতিদিন বই আসছে। আশা করছি ফেব্রুয়ারির ১০ তারিখের মধ্যে চলে আসবে। নবম, দশমের বিজ্ঞান ও ইংলিশ মিডিয়ামের বই এখনো আসেনি। ৮ম শ্রেণির বই কিছু উপজেলায় গেছে, কিছু উপজেলায় যায়নি। নবম দশম শ্রেণির সাধারণ বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিচ্ছি, পাশাপাশি ষষ্ঠ, সপ্তম শ্রেণির বই যেন দ্রুত সময়ে আসে সেজন্য কাজ করছি এবং নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রাথমিকে গতকাল পর্যন্ত ৪৭ লাখ ৫২ হাজারের মধ্যে বই এসেছে মাত্র ২৪ লাখ। যা চাহিদার ৬০ শতাংশের মতো। এর মধ্যে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির বই এলেও তা একদম তুলনামূলকভাবে কম। তবে বাংলা, গণিত ইংরেজি বই এসেছে। একেবারে কম আসছে বিজ্ঞান, সমাজ ও ধর্ম শিক্ষার বই। অপরদিকে মাধ্যমিকে ১ কোটি ৭৪ লাখ বইয়ের চাহিদা রয়েছে। গতকাল পর্যন্ত এসেছে মাত্র ৩২ লাখ বই, যা চাহিদার তুলনায় মাত্র সাড়ে ১৮ শতাংশ।
মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বছরের শুরুতে বই পেলে শিক্ষার্থীরা আনন্দ নিয়ে স্কুলে যাবে। বই না পেলে তারা কি নিয়ে স্কুলে যাবে। এখন শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাচ্ছে ঠিক আছে, কিন্তু বই না থাকার কারণে লেখাপড়া তো হচ্ছে না। হলেও ধরেন, বই না থাকার কারণে যারা বই পায়নি তারা পড়তে পারছে না।
তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ২৮, মাধ্যমিক ৫৬৬ ও স্কুল অ্যান্ড কলেজ ৬৩টি। এ ছাড়া জেলায় দাখিল মাদরাসা রয়েছে ১২৭টি, আলিম ৩৬টি, ফাজিল ৬৪টি ও কামিল ১৯টি। সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৬ লাখ ৮৬ হাজার ৯৯৪। তথ্যমতে, চট্টগ্রাম নগরীর ৬টি শিক্ষা থানায় বইয়ের চাহিদা ৬৮ লাখ ৭ হাজার ২৩৫টি। এর বাইরে বাঁশখালী উপজেলায় ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৩৭০, বোয়ালখালীতে ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৯৫০, সন্দ্বীপে ৫ লাখ ৩৬ হাজার ৪৭০, হাটহাজারীতে ১০ লাখ ১৭ হাজার ৯০০, চন্দনাইশে ৪ লাখ ২২ হাজার ১৬০, রাউজানে ৫ লাখ ৭৮ হাজার ৩৯১, মিরসরাইয়ে ৮ লাখ ৫৭ হাজার ১৩০, আনোয়ারায় ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৫২০, কর্ণফুলীতে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৯০০, সাতকানিয়ায় ৮ লাখ ৫২ হাজার ২৬০, সীতাকুন্ডে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০০, ফটিকছড়িতে ১১ লাখ ৬৮ হাজার ৬০০, লোহাগাড়ায় ৯ লাখ ৫৩ হাজার ১৫০, পটিয়ায় ৮ লাখ ৭৬ হাজার ১৫০, রাঙ্গুনিয়ায় ৬ লাখ ৭৭ হাজার ৫৬০টি বইয়ের চাহিদা রয়েছে। এদিকে চট্টগ্রাম জেলায় সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৪ হাজার ২৬৫টি। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী আছে প্রায় ১০ লাখ ১৮ হাজার। এসব স্কুলে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত এ বছর ৪৭ লাখ ৫২ হাজার পাঠ্যবইয়ের চাহিদা রয়েছে। প্রতিবছর ডিসেম্বরের মধ্যেই বেশিরভাগ বই চলে আসে। কিন্তু বছরের এক মাস পার হতে চললেও এখনো শতভাগ বই আসেনি।