বহুল আলোচিত ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালানের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ছয়জনকে খালাস দিয়েছেন হাই কোর্ট। একই সঙ্গে ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার সামরিক কমান্ডার পরেশ বড়ুয়াসহ পাঁচজনের সাজা কমানো হয়েছে। ওই মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের করা আপিলের ওপর শুনানি শেষে বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি নাসরিন আক্তারের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ গতকাল এ রায় দেন। এর আগে চট্টগ্রামে ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালানের ঘটনায় করা মামলায় গত ১৮ ডিসেম্বর মৃত্যুদণ্ড থেকে লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ছয়জন খালাস পান।
রায়ের পর বাবরের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, কোর্ট বলেছেন, আজকে (গতকাল) একটি অ্যাডভান্স অর্ডার সই করে দেবেন। আমি আশা করি আজকেই (গতকাল) এই আদেশ পৌঁছানো হবে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে তিনি জেল থেকে মুক্তি পাবেন। বাবর বর্তমানে কেরানীগঞ্জ কারাগারে আছেন বলেও জানান তিনি। রায়ে লুৎফুজ্জামান বাবর ছাড়াও জামায়াত নেতা সাবেক শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামীকেও খালাস দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি মারা যাওয়ায় তাঁর আপিল অ্যাবেট (পরিসমাপ্তি) ঘোষণা করেন হাই কোর্ট। খালাসপ্রাপ্ত বাকি চারজন হলেন- রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহসিন উদ্দিন তালুকদার, তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) কে এম এনামুল হক, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব নুরুল আমিন। রায়ে মতিউর রহমান নিজামী ছাড়াও মারা যাওয়ার কারণে তিনজনের আপিল অ্যাবেট (পরিসমাপ্তি) ঘোষণা করেছেন হাই কোর্ট। তারা হলেন এনএসআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আবদুর রহিম, শ্রমিক সরবরাহকারী দ্বীন মোহাম্মদ ও ট্রলারমালিক হাজি সোবহান।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল সিইউএফএল ঘাট থেকে আটক হয় ১০ ট্রাকভর্তি অস্ত্রের চালান। এ ঘটনায় কর্ণফুলী থানায় অস্ত্র আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে দুটি মামলা হয়।