রাজশাহী অঞ্চলে আমন ধান কাটা-মাড়াই প্রায় শেষ। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এবার আমনের ভালো ফলন হয়েছে। হাটবাজারে ধানের আমদানি বেশি। মিল মালিকরা এসব হাটবাজার থেকে নতুন ধান কিনে নিয়ে মজুত করছেন। চালকলগুলোতে দিনরাত ভাঙানো হচ্ছে ধান। শত শত টন চাল মোকামে যাচ্ছে। অন্যদিকে আমদানি করা চালও বাজারে নেমেছে। এর পরও এই অঞ্চলে নতুন-পুরনো সব ধরনের চালের দাম বাড়ছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত ছয় মাসে রাজশাহী অঞ্চলে সব ধরনের চালের দাম ১৫ শতাংশ বেড়েছে। আর বাড়তি দামে বিপাকে পড়ছেন নিম্নআয়ের সাধারণ মানুষ। গতকাল রাজশাহীর বিভিন্ন চালের আড়ত ও দোকান ঘুরে দেখা যায়, আটাশ জাতের প্রতি ৫০ কেজির বস্তা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৫০০ টাকায় যার প্রতি কেজির দাম পড়ছে ৬৮-৭০ টাকা। সাহেব বাজারের চাল বিক্রেতা মিলন জয়নওয়াল বলেন, দুই সপ্তাহ আগে তারা আটাশ জাতের ৫০ কেজির বস্তা বিক্রি করেছেন ৩ হাজার ২০০ টাকায়, যার প্রতি কেজির দাম ছিল ৬৪ টাকা। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে আটাশ চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৪-৬ টাকা। অন্যদিকে গুটি স্বর্ণা বা মোটা চাল প্রতি ৫০ কেজির বস্তা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৯০০ টাকা। এতে প্রতি কেজির দাম পড়ে ৫৮-৬০ টাকা। খুচরা বিক্রেতারা জানান, দুই সপ্তাহ আগেও তারা স্বর্ণা চাল ৬০-৬৫ টাকা কেজি করে বিক্রি করেছেন। একইভাবে জিরাশাইল চাল বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ৬০০ টাকা বস্তা। তবে জিরাশাইলের খুচরা বিক্রি করা দাম এখন ৮০ টাকা। এক মাস আগেও রাজশাহীর বাজারে জিরাশাইল চাল ছিল ৭৬ টাকা কেজি।
নাজিরশাইল ৮৪ টাকা, বাসমতি ৯০ টাকা, শম্পা কাটারি ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
নিউ মার্কেটের পাইকারি চাল ব্যবসায়ী রবিউল আলম বলেন, বাজারে নতুন ধান উঠলেও চালের দামের ওপর কোনো প্রভাব পড়ছে না। গত ছয় মাসে সব ধরনের চালের ক্ষেত্রে ৫০ কেজির প্রতি বস্তায় দাম বেড়েছে ৫০০-৬০০ টাকা। গত এক বছরে চালের দাম এক টাকাও কমেনি। বরং কেজিতে তিন-চার টাকা করে বেড়েছে। তবে ডিসেম্বরের শেষ দুই সপ্তাহে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে ৪ থেকে ৬ টাকা করে বেড়ে গেছে। চাল ব্যবসায়ীরা জানান, চালের শুল্ক কমিয়ে দেওয়ায় প্রতিদিন সোনামসজিদ, হিলি ও ভোমরা বন্দর দিয়ে বিপুল পরিমাণ চাল আসছে ভারত থেকে। তার পরও বাজারে চালের দাম কমছে না। গত ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে ৬৬ হাজার টন চাল এসেছে ভারত থেকে। এসব চাল মোকামে পৌঁছানোর পরও দাম না কমায় ভোক্তাদের ভোগান্তি বেড়েছে।