চট্টগ্রামে পটিয়া উপজেলা কোলাগাঁও ইউনিয়নের বাসিন্দা জসিম উদ্দিন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আসেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। চিকিৎসক তাকে হৃদরোগ বিভাগে ভর্তির পরামর্শ দেন। জরুরি বিভাগের ওপরে দ্বিতীয় তলায় হৃদরোগ বিভাগের অবস্থান। কিন্তু হাসপাতালের পূর্ব গেটটি বন্ধ থাকায় প্রধান গেট দিয়েই দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যেতে হয়েছে। রোগীর সন্তান মো. এরশাদ বলেন, জরুরি বিভাগ থেকে হৃদরোগ বিভাগে যাওয়ার যে পথটি আছে তা অত্যন্ত সরু। কিন্তু বিকালে পূর্ব গেটটি বন্ধ থাকায় প্রধান গেট হয়ে বাবাকে দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যেতে হয়েছে। ওষুধ কেনার জন্য বার বার যেতে বিপাকে পড়তে হয়। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, দালাল রোধ এবং নিরাপত্তার কারণে অফিস সময়ের পর গেট বন্ধ রাখা হয়।
জানা যায়, চমেক হাসপাতালে প্রবেশে তিনটি গেট আছে। এর মধ্যে প্রধান গেটটি সব সময় খোলা থাকলেও দুপুর ২টার পর পূর্ব ও পশ্চিমের গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। গত প্রায় দুই বছর ধরে এভাবে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এ সময় ছোট গেটটি খোলা থাকে। কিন্তু এটি দিয়ে রোগীর ট্রলি বা হুইল চেয়ার নিয়ে যাতায়াত করা যায় না। ফলে রোগীকে বাধ্য হয়ে প্রধান গেট ব্যবহার করতে হয়। মুমূর্ষু ও সংকটাপন্ন রোগীদের এমন সময়ে বিপাকে পড়তে হয়। অগ্নিদুর্ঘটনা বা বড় কোনো দুর্ঘটনার জরুরি মুহূর্তে গেট বন্ধ থাকার কারণে দুর্ভোগটা আরও তীব্র হয়। জরুরি বিভাগের ভিতর দিয়ে সরু যাতায়াত পথ থাকলেও সেটা অপ্রতুল। যাতায়াতের এমন অবস্থায় দুর্ভোগে পড়তে হয় রোগী ও স্বজনদের। চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন বলেন, দালাল রোধ এবং নিরাপত্তার কারণে অফিস সময়ের পর গেট বন্ধ রাখা হয়। তবে প্রধান ফটক সবসময় খোলা থাকে। এছাড়া জরুরি বিভাগের অংশও খোলা রয়েছে। আশা করি রোগীদের কোনো সমস্যা হয় না। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জরুরি বিভাগটির অবস্থান হাসপাতালের পূর্ব পাশে। প্রতিটি রোগীকে জরুরি বিভাগের মাধ্যমেই হাসপাতালে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়। জরুরি বিভাগের পাশে আছে পূর্ব গেট। গেটের ভিতরেই অবস্থান ডেঙ্গু ওয়ার্ড।
আবার অতিজরুরি হৃদরোগ বিভাগও পূর্ব দিকের দ্বিতীয় তলায়। তৃতীয় থেকে ষষ্ঠ তলা পর্যন্ত আছে গাইনিসহ গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ড। কিন্তু জরুরি বিভাগের পাশের গেটটি দুপুরের পর থেকে বন্ধ থাকে। খোলা থাকে কেবল ছোট পকেট গেট। অন্যদিকে, একইভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় পশ্চিমের গেটও। এই গেটের মুখেই আছে অতি গুরুত্বপূর্ণ রেডিওথেরাপি বিভাগ, ব্লাড ব্যাংক, টিকিট কাউন্টার এবং দ্বিতীয় তলা থেকে ষষ্ঠ তলা পর্যন্ত আছে- গাইনি ওয়ার্ড, বার্ন ইউনিট, ইউরোলজি, কিডনিসহ গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ড। বড় গেট বন্ধ থাকায় ট্রলি বা হুইল চেয়ার দিয়ে রোগী বহন করার সময় বিপাকে পড়তে হয়।