ভারতের কাছে হেরে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শুরু করলেও এখনো বাংলাদেশের সেমিফাইনালের আশা শেষ হয়ে যায়নি। সম্ভাবনা ভালোভাবে জেগে থাকবে যদি আজ পাকিস্তান হেরে যায় ভারতের কাছে এবং আগামীকাল গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে টাইগাররা জয় পায়। ভারত ও পাকিস্তানের ম্যাচে যে কেউ জিততে পারে। কিন্তু রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে নাজমুল হোসেনদের জয়ে ফেরাটা খুবই কঠিন। কেননা প্রতিপক্ষ দেশ যে নিউজিল্যান্ড। যারা ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে। প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক পাকিস্তানকে দাঁড়াতেই দেয়নি। সেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পেলে তা হবে বিরাট সাফল্য। ওয়ানডে ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে একাধিকবার পরাজিত করেছে বাংলাদেশ। দুটি সিরিজে হোয়াইটওয়াশও করেছে।
সত্যিই বলতে কী, এখনকার চেয়ে তখনকার নিউজিল্যান্ড অনেক শক্তিশালী ছিল। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভালো খেললে রাওয়ালপিন্ডিতে জিততেও পারে। ভালো খেলা নিয়েই তো যত প্রশ্ন। ওই সময় মাশরাফি, সাকিব, মুশফিক, তামিম ও মাহমুদুল্লাহদের মধ্যে সমন্বয় ও ধারাবাহিকতা ছিল। এখন তো কিছুই নেই। ভারতের বিপক্ষে ৩৫ রানে পাঁচ উইকেট পড়ে যাওয়ায় তিন অঙ্ক ছুঁতে পারবে কি না তা নিয়ে সংশয় ছিল। তাওহিদ হৃদয় ও জাকের আলির দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ২২৮ রানের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল। এমন বিপর্যয়েও দুজন ১৫৪ রানের জুটি গড়েছিলেন। মাংসপেশিতে টান পড়ার পরও সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন তাওহিদ হৃদয়। ক্রিকেট ১১ জনের খেলা হলেও বাংলাদেশের জন্য তা নয়। দেখা যাচ্ছে দু-তিনজন ছাড়া কেউ খেলতে পারছেন না। বলা চলে মহাসংকটে বাংলাদেশের ক্রিকেট।
নিউজিল্যান্ডকে হারালে সেমির আশা টিকে থাকবে। আজ যদি পাকিস্তান জিতে যায় তাহলে সমীকরণের প্রয়োজন পড়বে। তবে সব শেষ হয়ে যাবে আজ ভারত ও আগামীকাল নিউজিল্যান্ড জিতে গেলে। দুটি দেশেরই সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যাবে। ২৭ ফেব্রুয়ারি তখন বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ম্যাচটি আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হবে। পাকিস্তান-ভারতের ম্যাচে যাই ঘটুক না কেন বাকি দুটিতে বাংলাদেশ কী করবে সেটাই বড় প্রশ্ন। অধিনায়ক নাজমুল ঢাকা ছাড়ার আগে দৃঢ়তার সঙ্গে বলে গেছেন, বাংলাদেশের চোখ শিরোপাতেই। কী ভেবে তিনি এমন মন্তব্য করেছিলেন তা নিজেই জানেন।
ভারতের বিপক্ষে যে পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছে তাতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একাদশ পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। সেটা ব্যাটিং ও বোলিং দুটোতেই। টিম ম্যানেজমেন্ট এনিয়ে ভাবতেও শুরু করেছে। ক্রিকেটপ্রেমীরা নিশ্চিত ছিলেন ভারতের বিপক্ষে বোলিং লাইনআপে নাহিদ রানাকে দেখা যাবে। ভারতের কাছেও আতঙ্কের নাম তিনি। অথচ পেস বিভাগে জায়গা হয়নি রানার। মুস্তাফিজ সেরা একাদশে ছিলেন, এনিয়েও প্রশ্নের শেষ নেই। যদিও ভারতের মতো বিশ্বখ্যাত ব্যাটারদের ২২৯ রানের মামুলি টার্গেটে নাহিদ থাকলেও বা কী করতেন এটাও বলা হচ্ছে।
বাংলাদেশের টপঅর্ডার ব্যাটাররা নিয়মিত রান করছেন না অনেকদিন ধরে। বিশেষ করে অধিনায়ক নাজমুল তো ব্যর্থতার বৃত্তে বন্দি। টপঅর্ডারের ব্যর্থতায় এখন লিটন দাসের প্রসঙ্গ উঠে আসছে। তিনিও রানে ছিলেন না বলে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির স্কোয়াডে জায়গা হয়নি। লিটন যদি বাদ পড়েন, নাজমুল কেন থাকলেন? অধিনায়ক বলেই কি কথা। নেতৃত্বেও তিনি কী এমন ভূমিকা রাখছেন যে, অধিনায়কত্বে বিকল্প কেউ নেই। জাতীয় দলের সাবেক এক অধিনায়ক বলেছেন, পারফরম্যান্সের বিচার করলে নাজমুলের তো দলেই থাকার কথা নয়। তার পরও সে অধিনায়ক। বিকল্প হিসেবে অনেকে মেহেদী হাসান মিরাজের কথা বলছেন। এবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তিনিই তো সহঅধিনায়ক। বিসিবির এক পরিচালক বলেছেন, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর জাতীয় দলের নেতৃত্বের যে পরিবর্তন আসছে তা ধরে নিতে পারেন।
তিনি বলেন, এমনও হতে পারে নেতৃত্বের চাপে নাজমুল নিজের সেরাটা দিতে পারছেন না। তাই নেতৃত্ব বদলটা জরুরি হয়ে পড়েছে।