ক্রীড়াঙ্গনের উর্বর ভূমি চট্টগ্রাম। ফুটবল, ক্রিকেট ছাড়াও হকি, ব্যাডমিন্টনসহ নানা খেলায় মুখর থাকে এম এ আজিজ স্টেডিয়াম। এই মাঠ থেকে উঠে এসেছে জাতীয় মানের অনেক খেলোয়াড়, যারা উজ্জ্বল করেছে দেশের মুখ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। এ স্টেডিয়ামে সারা বছর ধরে নানা ইভেন্টের খেলা আয়োজন করে চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা। সে স্টেডিয়ামকে বাফুফের অধীনে দেওয়ার কারণে অন্য ইভেন্টগুলো আয়োজন নিয়ে শঙ্কায় সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, চট্টগ্রামে যদি আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল স্টেডিয়াম করতে হয়, তাহলে এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের পরিবর্তে পলোগ্রাউন্ড মাঠকে করা যায়। মাঠটি সারা বছর অযত্ন অবহেলায় থাকে। পলোগ্রাউন্ড ফুটবলের জন্য বরাদ্দ হলে বছরব্যাপী আয়োজন করা সিজেকেএসের অন্যান্য খেলা বাধাগ্রস্ত হবে না।
চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সহসভাপতি হাফিজুর রহমান বলেন, এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে ক্রিকেট, ফুটবলসহ সারা বছর বিভিন্ন ইভেন্টের খেলার আয়োজন করা হয়। আর এটি জেলা ক্রীড়া সংস্থার নিজস্ব মাঠ। চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট ভেন্যু রয়েছে। যে সব জেলায় নেই সেখানে ফুটবল ভেন্যু করতে পারে। আর যদি চট্টগ্রামে করতে হয়, তাহলে সেটা এম এ আজিজ স্টেডিয়াম না করে পলোগ্রাউন্ড মাঠ আছে বা কর্ণফুলী টানেলের আনোয়ারা প্রান্তে খালি জায়গায় তৈরি করা যেত। তাহলে এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে বছরব্যাপী যে সব ইভেন্ট আয়োজন করা হয়, সেটা বাধাগ্রস্ত হবে না। আমরা বাফুফেকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিক্স পুরস্কারপ্রাপ্ত চট্টগ্রামের সন্তান সোহেল সরওয়ার বলেন, চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে বছরজুড়ে ৩০-৩৫টি ইভেন্ট আয়োজন হয়ে থাকে। বিকল্প ভেন্যু না করায় এসব ডিসপ্লে খেলাগুলো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ফুটবলের জন্য নির্দিষ্ট একটি মাঠ দরকার আছে। কিন্তু সেটা চট্টগ্রামের অন্যান্য যেসব মাঠ আছে, বিশেষ করে পলোগ্রাউন্ড, বাকলিয়া মাঠ বা শহরতলির কোনো মাঠকে ফুটবলের জন্য উপযোগী করে স্থায়ী বরাদ্দ দেওয়া যায়। তাহলে ৩৫টি যে ইভেন্ট স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হতো, সেগুলো অব্যাহতভাবে আয়োজন করা যাবে। সেটা না করে ফুটবলের জন্য মাঠটি বরাদ্দ দেওয়ার ফলে বাকি খেলাগুলো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
আনোয়ারা উপজেলা ক্রিকেট একাডেমির পরিচালক সুমন শাহ বলেন, এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের পরিবর্তে যদি আনোয়ারা উপজেলায় আন্তর্জাতিক মানের ফুটবলের ভেন্যু করা হয়, তাহলে কর্ণফুলী টানেলের ব্যবহার বাড়বে। পাশাপাশি শহরের ওপর থেকেও চাপ অনেকাংশে কমে যাবে।
এম এ আজিজ স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক ফুটবল স্টেডিয়াম তৈরির জন্য ১২ শর্তে বাফুফের কাছে ‘লিজ’ দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। গত ২ জানুয়ারি এক চিঠিতে বলা হয়েছে, ২৫ বছরের জন্য ওই মাঠ বরাদ্দ দিয়েছে ১২টি শর্তে। সে অনুযায়ী মাঠে কোনো সংস্কার ও মেরামত করতে হলে ক্রীড়া পরিষদকে অবহিত করে কাজের ব্যয়ভার বাফুফে বহন করবে। লিজ চলাকালে কোনো ক্ষতি সাধন হলে বাফুফে ক্ষতিপূরণ দেবে। স্টেডিয়ামের বিদ্যুৎ, পানিসহ সব ধরনের ইউটিলিটি বিল, ভূমিকরসহ যাবতীয় রাজস্ব ব্যয় বাফুফে বহন করবে। ক্রীড়া পরিষদের অনুমতি ছাড়া স্টেডিয়ামের কোনো মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করা যাবে না। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের খেলাধুলায় ১৫ শতাংশ গেট মানি ক্রীড়া পরিষদকে দিতে হবে। ক্রীড়া পরিষদের অনুমতি ছাড়া বাফুফে মাঠটি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহারের অনুমতি দিতে পারবে না।
এম এ আজিজ স্টেডিয়াম আগে থেকেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যু হিসেবে তালিকাভুক্ত। ২০০৫ সালে বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ে টেস্ট ম্যাচ হয়েছিল এ মাঠে, যেখানে প্রথম টেস্ট জয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ। সে কারণে এ স্টেডিয়াম বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে স্মরণীয় একটি মাঠ।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা-সিজেকেএসের কমিটি নেই। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার মতো চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার কমিটিও ভেঙে দেওয়া হয়। অ্যাডহক কমিটি গঠনের নির্দেশনা থাকলেও তা এখনো গঠন করা হয়নি।