হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা মুহিউদ্দিন রাব্বানী বলেছেন, শাপলা চত্বরের ঘটনায় হেফাজতের ওপর যে বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল আমরা সেই জুলুম-নির্যাতনের স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানাই। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত চাই। নিরপরাধ আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং প্রকৃত দোষীদের বিচারের আওতায় আনা হোক। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রতিবেদন আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘ সঠিকভাবে তদন্ত করে মানুষের অধিকার ও স্বাধীনতার প্রতি সম্মান দেখাবে। আমাদের দাবি সরকার যেন জনগণের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমন না করে। দেশে মানবাধিকার সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক স্তরে যে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হোক তা যেন সুবিচার ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে হয়। শাপলা চত্বরের হত্যাকান্ডের বিচার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি কতদূর-জানতে চাইলে মাওলানা মুহিউদ্দিন রাব্বানী বলেন, শাপলা চত্বরের নৃশংস ঘটনা জাতির জন্য কালো অধ্যায়। আমরা বরাবরই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেছি। সে রাতে যে নিরীহ আলেম-ওলামা ও সাধারণ মুসল্লিদের ওপর হামলা চালানো হয়, তার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই। একইসঙ্গে ভোলায় নবীপ্রেমিককে শহীদ, ২০২১ সালে মোদিবিরোধী আন্দোলনে ঢাকা, ব্রাক্ষণবাড়িয়া, মুন্সিগঞ্জ, হাটহাজারী এবং পুলিশ হেফাজতে নারায়ণগঞ্জের শহীদ মাওলানা ইকবাল হত্যাসহ ফ্যাসিস্টের সময়ে নিহত আহত সব অপরাধের বিচার চাই। তিনি বলেন, বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে লক্ষ করছি, দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তের অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। আমরা সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই, যেন এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হয়। তিনি বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ উপায়ে আমাদের দাবি জানিয়ে যাব এবং আশা করব, সরকার জনগণের ন্যায়সংগত দাবি মেনে নিয়ে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে শাপলা চত্বর ট্র্যাজেডির বিষয়ে একটি সাব কমিটি গঠন করা হয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুত তারা তাদের কাজ শেষ করবে। ইনশাল্লাহ, জাতির সামনে বিস্তারিত সেই প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার চেয়েছিলেন, অগ্রগতি কতদূর? জানতে চাইলে বলেন, ইতোমধ্যে হেফাজতের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে বিচার চেয়ে মামলা করা হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। আমরা চাই সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা গ্রহণ করুক এবং নিরপরাধ আলেম-ওলামাসহ তৌহিদি জনতার ওপর চালানো নির্যাতনের জন্য দোষীদের বিচারের আওতায় আনুক। হেফাজতে ইসলাম সব সময়ই শান্তিপূর্ণ উপায়ে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে আসছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখবে।