ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের স্প্যানিশ ভাষার শিক্ষক সের্খিও রোদ্রিগেস। বাংলাভাষীদের স্প্যানিশ শেখানোর পাশাপাশি নিজেও প্রতিষ্ঠানটিতে ডিপ্লোমা কোর্সে বাংলা শিখছেন। গতকাল এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে নিজের ভাষা শেখানো ও শেখার অভিজ্ঞতা জানান তিনি।
সের্খিও রোদ্রিগেস বলেন, আমি ২০২১ সালের নভেম্বর থেকে বাংলাদেশে থাকছি। এ দেশের মানুষকে নিজ দেশের ভাষা শেখানো এবং নিজেও এ দেশের ভাষা শেখার অভিজ্ঞতাটা দারুণ। ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করা আমার কাছে খুবই চমৎকার একটি বিষয়। আমি যা জানি তা অন্যদের জানানো এবং অন্যরা যা জানে তা তাদের কাছ থেকে জেনে নেওয়া এটিই জীবনের শ্রেষ্ঠ পাওয়া।
তিনি বলেন, যদিও বাংলাদেশ এবং স্পেনের জীবন অনেক আলাদা তবুও আমি শুরু থেকেই ঘরে থাকার অনুভূতি পেয়েছি। প্রথমেই যে জিনিসটা আমার নজর কেড়েছিল তা হলো রাস্তায় মানুষের সংখ্যা। বাংলাদেশ স্পেনের তুলনায় ছোট দেশ হলেও, এর জনসংখ্যা অনেক বেশি। দুই দেশের মধ্যে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কিছু পার্থক্য রয়েছে। স্পেনে পরিবার বা পারিবারিক সম্পর্ক বাংলাদেশের মতো এত বিস্তৃত নয়। অবশ্যই আমার দেশে পরিবার খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বাংলাদেশে পরিবার মানুষের জীবনে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। যা আমার কাছে খুব ভালো লাগে।
স্পেন ও বাংলাদেশের মানুষ একই মন্তব্য করে তিনি বলেন, উভয় দেশের মধ্যে মিল রয়েছে। দুই দেশের মানুষই বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে সময় কাটাতে পছন্দ করে। উভয় দেশেই এটা সম্ভব কারণ আমরা ভালো আবহাওয়া উপভোগ করি। আমার মতে, জলবায়ু মানুষের চরিত্র ও স্বভাবকে প্রভাবিত করে। এজন্যই উভয় দেশের মানুষ হাসিখুশি এবং মিশুক।
বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি টানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, শুরু থেকেই আমি বাংলা ভাষা শিখতে চেয়েছিলাম কারণ এদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বোঝার জন্য ভাষার দক্ষতা প্রয়োজনীয়। তাছাড়া, স্পেনে থাকার সময় আমার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা পড়তে ভালো লাগত। তাই আমি বাংলা ভাষা শেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।
এ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস সম্পর্কে শিখছি। আমার বাংলা সাহিত্য অনেক ভালো লাগে। তাই আমার স্বপ্ন একদিন বাংলা ভাষায় বাংলা সাহিত্য পড়তে পারব। বাংলাদেশে থেকে এদেশের সাহিত্য-সংস্কৃতি-ঐতিহ্য সম্পর্কে শেখার সুযোগ পেয়ে আমি খুব খুশি।