জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাই কোর্টের দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ডের রায় বাতিল চেয়ে আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে। গতকাল শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেছেন। আজকের কার্যতালিকার ১ নম্বর ক্রমিকে বিষয়টি রাখা হয়েছে।
আদালতে আপিলের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, বদরুদ্দোজা বাদল, রুহুল কুদ্দুস কাজল ও কায়সার কামাল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আসিফ হাসান। কাজী সালিমুল হক কামালের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান। খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা মনে করছেন, প্রধান অভিযুক্ত যদি খালাস পান, তাহলে অন্যরা যাঁরা আপিল করেননি বা যাঁদের এ মামলায় যুক্ত করা হয়েছে তাঁরাও খালাস পাবেন।
এর আগে ১১ নভেম্বর খালেদা জিয়াকে আপিলের অনুমতি দিয়ে হাই কোর্টের দেওয়া সাজার রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেছিলেন আপিল বিভাগ। পরে খালেদা জিয়া আপিল করেন।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তরের প্যারেড গ্রাউন্ডে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মো. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদ দেন। একই সঙ্গে খালেদা জিয়ার ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদ দেন আদালত।
পরে হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ওই বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া আপিল করেন। ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর হাই কোর্ট খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করে রায় দেন। একই সঙ্গে খালাস চেয়ে আসামিদের করা আবেদন খারিজ করেন আদালত। পরে তাঁরা আপিল বিভাগে আবেদন করেন।
খালেদা জিয়ার নাইকো মামলায় ৩৮ জনের সাক্ষ্য শেষ : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ সাতজনের বিরুদ্ধে নাইকো দুর্নীতির মামলায় আরও ছয়জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত। গতকাল ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মো. আবদুল্লাহ আল মামুনের আদালতে এই সাক্ষ্য গৃহীত হয়। সাক্ষ্য শেষ হওয়ায় আদালত পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ২১ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন। এ মামলায় ৬৮ জন সাক্ষীর মধ্যে গতকাল পর্যন্ত ৩৮ জনের সাক্ষ্য শেষ হয়েছে। খালেদা জিয়ার আইনজীবী আবদুল হান্নান ভূঁইয়া এসব তথ্য জানান। মামলার অন্য সাত আসামি হলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেল করপোরেশনের চেয়ারম্যান সেলিম ভূঁইয়া ও নাইকোর দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ। এর মধ্যে তৎকালীন বিএনপি সরকারের আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন ও বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান মারা যাওয়ায় তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের তৎকালীন সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম তেজগাঁও থানায় এ মামলাটি করেন। ২০১৮ সালের ৫ মে ১১ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। এতে তাদের বিরুদ্ধে কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতিসাধনের অভিযোগ আনা হয়। ২০২৩ সালের ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু করেন আদালত।