যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যা ও প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার দায়ে স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহা. রকিবুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন বলে বেঞ্চ সহকারী আজিবর রহমান নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডিত কালাম রাঢ়ী (৫০) বরিশাল সদর উপজেলার খোন্তাখালী এলাকার কাঞ্চন রাঢ়ীর ছেলে। রায় ঘোষণার সময় কালাম এজলাসে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বরাতে বেঞ্চ সহকারী আজিবর বলেন, যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী নুপুর বেগমকে প্রায়ই নির্যাতন করতেন কালাম রাঢ়ী। ২০১৩ সালের ১৩ মার্চ, বাকেরগঞ্জের কবিরাজ গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে স্ত্রীকে নিয়ে বেড়াতে আসেন তিনি। সেখানে গিয়ে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী নুপুরের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক হয়। পরে ১৪ মার্চ নুপুরকে নিয়ে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এরপর থেকে নুপুরের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
পরবর্তীতে ১৬ মার্চ জানা যায়, ১৫ মার্চ নুপুরের লাশ বরিশাল মহানগর পুলিশের বন্দর থানার কুন্দিয়াল পাড়া, যোগেন্দ্র সরদারের বাড়ির পূর্ব পাশের খালের মধ্যে থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নুপুরের মা রেনু বেগম বাদী হয়ে বন্দর থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা বন্দর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রেজাউল ইসলাম স্বামী কালাম রাঢ়ীকে অভিযুক্ত করে ২০১৩ সালের ২৬ জুলাই আদালতে চার্জশিট জমা দেন। চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, শ্বাসরোধ করে নুপুরকে হত্যা করে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে লাশ খালের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।
বিচারক মামলার ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের পর রায় দেন।
রায়ে প্রমাণ লোপাটের দায়ে তিন বছরের কারাদণ্ড ও তিন হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার পর দণ্ডিত কালাম রাঢ়ী বলেন, রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। তিনি স্বীকার করেন যে যৌতুক দাবি করেছিলেন, তবে হত্যার দায় অস্বীকার করেন।
বিডি প্রতিদিন/আশিক