ফরিদপুরের বোয়ালমারী পৌর এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী বড় পুকুর রক্ষার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পুকুর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম পলাশ।
আজ শনিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আমিরুল ইসলাম জানান, বোয়ালমারীর কৃতি সন্তান ছবদু মিয়া এলাকাবাসীর পানির সুব্যবস্থার জন্য ১৯৪১ সালে ১ একর ৬৯ শতাংশ জায়গায় বড় আকারের একটি দিঘি খনন করে দেন। তখন থেকে গোসলসহ এই দিঘীর পানি বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে আসছিল এলাকাবাসী। স্বাধীনতার পর বড় পুকুর নামে খ্যাত দিঘিটি স্থানীয় গণ্যমান্যদের নিয়ে একটি কমিটির মাধ্যমে পরিচালনা করা হচ্ছিল। দীর্ঘদিন ধরে এ দিঘিতে মাছ চাষ করে এর আয় দিয়ে বিভিন্ন জনকল্যাণকর কাজ করছে পুকুর কমিটি। সাম্প্রতিক সময়ে বড় পুকুরটি জোরপূর্বক দখলে নিতে প্রভাবশালী একটি মহল নানা পাঁয়তারা চালাচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুকুরটিতে জোরপূর্বক মাছ মেরে নেন সাবেক কাউন্সিলর শেখ আতিকুল আলী। এছাড়া তিনি পুকুরের জায়গার বেশ কিছু গাছ কেটে নেন। এ বিষয়ে বাঁধা প্রদান করা হলে শেখ আতিকুল নানাভাবে ভয়ভীতি দেখান পুকুর কমিটির সদস্যদের।
অভিযোগে আরো বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়রা পুকুরটি ব্যবহার করে আসলেও বর্তমানে তাদের পুকুরে নামতে বাঁধা দিচ্ছে। এ নিয়ে বোয়ালমারী থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলন থেকে সার্বজনিন বড় পুকুরটি যাতে কোন স্বার্থান্বেষী মহল দখল করতে না পারে সেজন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা বড় পুকুরের পানি নানা কাজে ব্যবহার করে আসছেন। গত কয়েকমাস ধরে তারা পুকুরে নামতে পারছেন না। নামপ্রকাশ না করার শর্তে প্রবীণ এক রাজনীতিবিদ জানান, বোয়ালমারীর ঐতিহ্যবাহী বড় পুকুরটি দখলে নিতে একটি প্রভাবশালী মহল কাজ করছে। আমরা চাই এ পুকুরটি বিগত দিনে যেভাবে কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হতো সেভাবেই পরিচালিত হোক।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাবেক পৌর কাউন্সিলর শেখ আতিকুল আলীকে একাধিক বার ফোন দিলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি।
বিডি প্রতিদিন/জামশেদ