কক্সবাজার সৈকতের হোটেল সী-গাল পয়েন্টে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর গোলাম রাব্বানী টিপুর হত্যাকাণ্ডের এখনো কূলকিনারা খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে কক্সবাজারে সমুদ্র সৈকত এলাকায় সী-গাল পয়েন্টে গুলি করে হত্যা করা হয় সেচ্ছাসেবক লীগ নেতা খুলনা সিটি করপোরেশনের ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর টিপুকে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শুক্রবার ( ১০ জানুয়ারি) বিকেলে অজ্ঞাত পরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত গোলাম রব্বানীর ভগ্নিপতি মো. ইউনুস আলী শেখ।
জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসিম উদ্দিন চৌধুরী জানান, পুলিশ বেশ কয়েকটি ক্লু-কে কেন্দ্র করে এগোচ্ছে। তবে এখনো পর্যন্ত এই ঘটনার কোনো কূলকিনারা খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর জিজ্ঞাসাবাদে জন্য র্যাব হেফাজতে নেয়া টিপুর কক্সবাজার সফর সঙ্গী খুলনার ১৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শেখ হাসান ইফতেখার এবং নিহত টিপুর ঘনিষ্ঠ কক্সবাজার শহরের টেকপাড়ার বাসিন্দা মেজবাহ হক ভুট্টোকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনিবার (১১ জানুয়ারি) কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন চৌধুরী আরো বলেন, গোলাম রব্বানী হত্যা মামলার আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখিয়ে শেখ হাসান ইফতেফার ও মেজবাউল হককে শনিবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। হত্যার রহস্য উদঘাটনে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করলেও আবেদনের শুনানি না করে কারাগারে প্রেরণ করা হয় তাদের।
এই ঘটনায় তদন্তে নিয়োজিত র্যাব ও পুলিশের কর্মকর্তারা বলছে, হত্যার রহস্য উদঘাটিত না হলেও টিপু যে টার্গেট কিলিংয়ের শিকার তা অনেকটা নিশ্চিত।
এদিকে এখনো শনাক্ত হয়নি টিপু হত্যার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে সন্দেহ করা সেই মেডিকেল পড়ুয়া নারীকে। পুলিশের তথ্যমতে টিপুর সাথে সফরসঙ্গী রুমি নামে মেডিকেল পড়ুয়া সেই নারীর সর্বশেষ অবস্থান কক্সবাজারের লিংক রোড এলাকায় সনাক্ত করা যায়। এরপর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যায়নি। তবে সেই রহস্যময় নারীর খোঁজ পাওয়া গেলেই মিলবে কাউন্সিলর টিপু হত্যার রহস্য- এমন ধারণা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর।
বিডি প্রতিদিন/হিমেল