আসন্ন ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছে গণসাক্ষরতা অভিযান ও এডুকেশন ওয়াচ। রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত প্রাক-বাজেট সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী। এতে প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন এডুকেশন ওয়াচের ফোকাল পয়েন্ট ড. মোস্তাফিজুর রহমান। এ ছাড়াও আলোচনা করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদ ও সিপিডির রিসার্চ ডিরেক্টর ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।
সূচনা বক্তব্যে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, শিক্ষা কী করে যেন সবার মাইন্ডসেট (মনোজগৎ) ও অগ্রাধিকারের জায়গা থেকে চলে গেছে। নীতিনির্ধারক থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ে এমনটি দেখা যাচ্ছে। মানবসম্পদ উন্নয়নের সবচেয়ে হাতিয়ার শিক্ষা। কিন্তু এটি কী করে যেন অগ্রাধিকারের তালিকা থেকে ছিটকে পড়েছে। তিনি বলেন, একটি গণ অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশে নবতর স্বপ্ন দেখা হচ্ছে। সেই জায়গায় প্রথম দাবি- শিক্ষাকে অগ্রাধিকারের জায়গা থেকে বিচ্যুত করা যাবে না।
ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদ বলেন, দেশের শিক্ষার মূল যে চরিত্র সেটা হলো একটি চরম বৈষম্য। শিক্ষার বিভিন্ন ধারায় বৈষম্য আছে। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গুণমান আছে, সেগুলোর সুবিধা নেন কেবল সুবিধাপ্রাপ্তরা। বাকি অধিকাংশ সেই গুণমানের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। তিনি বলেন, বিরাট আন্দোলন হলো, আমরা সবাই বৈষম্যবিরোধী সমাজ চাই। এখন নানা সংস্কারের কথা হচ্ছে। কিন্তু শিক্ষা সংস্কারের জন্য কোনো কমিশনও হলো না।
খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, শিক্ষার বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোর কথা বলা হয়। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয় বরাদ্দ দেওয়া টাকাই ব্যয় করতে পারে না। এটি আরেক সমস্যা। একদিকে বরাদ্দ বাড়ানো দরকার, অন্যদিকে আবার মন্ত্রণালয় খরচ করতে পারে না। আবার খরচও যা করে, সেগুলোও গুণগত মানসম্মতভাবে খরচ হয় না।