বিএনপি ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, চব্বিশের স্বৈচারবিরোধী আন্দোলনে উত্তরা এলাকার অন্যতম সংগঠক এম কফিল উদ্দিন বলেছেন, বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করতে আওয়ামী স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা দেশে দখলদারির রামরাজত্ব কায়েম করেছিলেন। এখন আবার বিএনপিকে মাইনাস করার ষড়যন্ত্র চলছে। এই ষড়যন্ত্রকারীকের প্রতিহত করা হবে এবং ষড়যন্ত্রের কঠিন জবাব দেওয়া হবে। বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি এসব কথা বলেন।
রশীদ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম কফিল উদ্দিন বলেন, আওয়ামী লীগ শুধু বিরুদ্ধ মতের কারণে কোনো অপরাধ ছাড়াই আমাদের জীবন দুর্বিষহ করে দিয়েছিল। ৫ আগস্ট দেশ দ্বিতীয়বার স্বাধীন হওয়ার পর মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা ফিরে এসেছে। শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনকালে আমাদের কথা বলার কোনো স্বাধীনতা ছিল না। আমরা আমাদের নিজের বাড়িতে ঘুমাতে পারিনি। মানুষের মনে কোনো স্বস্তি ছিল না। ফ্যাসিস্ট পতনের পর মানুষ স্বস্তিতে ঘুমাতে পারছে। আমাদের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সাধ্যমতো সবকিছু ঠিক করার চেষ্টায় আছেন। তবে এই সরকারকে দেশের সাধারণ মানুষের অতি প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোর দিকে নজর দিতে হবে। নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় করতে হবে। ব্যবসাবাণিজ্যে গতি ফেরাতে হবে। ব্যবসায়ীদের শক্র না ভেবে সহযোগী হিসাবে কাজে লাগাতে হবে। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এম কফিল উদ্দিন বলেন, আওয়ামী স্বৈরাচার দেশের নির্বাচনিব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছিল। নির্বাচনব্যবস্থার মৃত্যু ঘটেছিল, শুধু জানাজা বাকি ছিল। জাতীয় সংসদ থেকে জেলা পরিষদ, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা সর্বত্র তারা দখলদারির রামরাজত্ব কায়েম করেছিল। এখন পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকারের হাতে দায়িত্ব দেওয়া উচিত। এর মধ্য দিয়েই নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার মানুষের মৌলিক চাহিদা, সব চাওয়াপাওয়া পূরণ করবে। তিনি বলেন, আমি ব্যবসা করি। প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান করেছি। আমার বিরুদ্ধে দুই শতাধিক মামলা ঝুলছে। এক রাতে ৯টি মামলা হয়েছে আমার নামে। দুটি মামলায় সাজা হয়ে গিয়েছিল, যাতে আমরা এলাকায় থাকতে না পারি। নির্বাচন করতে না পারি। আমি ঢাকা-১৮ আসনের প্রার্থী ছিলাম। মামলা-হামলা করে আমাদের এলাকা থেকে সরিয়ে দিয়েছে। কাজেই ছাত্র-জনতার আন্দোলনের শুরুটা আমাদের দিয়েই হয়েছিল। আমরা দীর্ঘদিন ধরে ক্ষেত্রটা প্রস্তুত করেছি। এম কফিল উদ্দিন বলেন, আমার রাজনৈতিক জীবনের ৪০ বছরে এমন কখনো দেখিনি, রাত ১০টার সময় ৭০-৮০ জনকে সেই সদরঘাটে নিয়ে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। এলাকায় থাকতে পারিনি। দুটি বড় ধর্মীয় উৎসব রোজার ঈদ ও কোরবানির ঈদের দিনও মা, বাবা, স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে ঈদ করতে পারিনি। কোরবানির দিন আমার বাড়ির গেটে সাদা পোশাকধারী দুই গাড়ি ডিবি পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকত। অথচ সব মামলায় জামিনে ছিলাম। সবকিছু রেখে পালাতে হয়েছে। রাতের পর রাত বাড়িঘর ছেড়ে বাইরে কাটাতে হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এম কফিল উদ্দিন বলেন, আমাদের অনেক কষ্ট, অনেক নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। আমি প্রায় ২২ মাস জেলে ছিলাম। আমরা তো চোর-ডাকাত নয়। অপরাধ শুধু কেন বিএনপি করি। আমরা তো টাকা কামানোর জন্য রাজনীতি করি না। আমাদের পারিবারিক ব্যবসা আছে, ইন্ডাস্ট্রি আছে। মানুষের জন্য কাজ করি। বিএনপি করাই যেন আমাদের অপরাধ ছিল। সংস্কার কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ৩১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। এতেই সংস্কারের সবকিছু আছে। আমাদের নেতা তারেক রহমান এ দেশের জনগণের জন্য রাজনীতি করেন। আমরা ইতোমধ্যে ৩১ দফা নিয়ে বৃহত্তর উত্তরার ২৬টি থানার ১০টিতে কর্মশালা করেছি।
তিনি বলেন, আগামী দিনে আমরা যদি নির্বাচিত হতে পারি এই ৩১ দফাই হবে জনগনের মুক্তির সনদ। এর সুফল দেশের প্রতিটি মানুষ পাবে। বর্তমানে বাংলাদেশের ব্যবসাবাণিজ্য অর্থনীতির বেহাল। শুধু রাজনৈতিক সরকারই সব অচলাবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে পারে। এজন্য একটি গ্রহণযোগ্য অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রতিনিধির হাতে ক্ষমতা দিয়ে এই সরকারের বিদায় নেওয়া উচিত।