ফিক্সড (নির্ধারিত) হার থেকে বেরিয়ে সঞ্চয়পত্রের সুদহার ‘বাজারভিত্তিক’ করার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রেরিত প্রস্তাব গতকাল অনুমোদিত হয়েছে। এখন শুধু সার্কুলার জারির অপেক্ষা। সে ক্ষেত্রে সব স্লাবে সুদের হার ১ থেকে ২ শতাংশ বাড়ানো হতে পারে বলে জানা গেছে। অর্থবিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানান, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য খাতের আমানতের সুদহারের সঙ্গে সমন্বয় করেই বাজারভিত্তিক নতুন সুদহার ঠিক করা হয়েছে। এতে বাজারে অন্যান্য আমানতের সুদহার বৃদ্ধি বা হ্রাস পাওয়ার সঙ্গে সঞ্চয়পত্রের সুদহারও ওঠানামা করবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বাজারভিত্তিক সুদহার ঠিক করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত অভ্যন্তরীণ ঋণের ঝুঁকি মোকাবিলায় এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিবেচনায় নিয়েছে সরকার। বর্তমানে তিন মাস মেয়াদি সঞ্চয়পত্রের মুনাফা দেওয়া হচ্ছে ১১ দশমিক ০৪, পূর্ণ মেয়াদে পরিবার সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ১১ দশমিক ৫২, পাঁচ বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ১১ দশমিক ২৮, পেনশন সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এসব সঞ্চয়পত্রের সুদহার নির্ধারিত। জানা গেছে, প্রতি বছর বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হচ্ছে সঞ্চয়পত্রের সুদ পরিশোধের পেছনে। চলতি (২০২৪-২৫) অর্থবছরেও প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে সুদ পরিশোধ বাবদ। গত অর্থবছরে জুলাই থেকে মার্চ এ নয় মাসে সঞ্চয়পত্রের সুদ পরিশোধে ব্যয় হয়েছে ৩৪ হাজার ২১৪ কোটি টাকা এবং অর্থবছর শেষে সুদ পরিশোধে মোট সম্ভাব্য ব্যয় হবে ৪৫ হাজার কোটি টাকা। জানা গেছে, বাংলাদেশকে দেওয়া আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণের শর্ত হিসেবে এর আগে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ বাজারভিত্তিক চালু করা হয়।
যে কারণে এখন বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি বা হ্রাস পাওয়ার সঙ্গে দেশের ভিতর জ্বালানি তেলের মূল্য ওঠানামা করে। একইভাবে সঞ্চয়পত্রের সুদহারও বাজারভিত্তিক চিন্তা করছে অর্থ বিভাগ। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ট্রেজারি বন্ড, ব্যাংকের আমানতের সুদসহ অন্যান্য সুদহারের সঙ্গে মিল রেখে সঞ্চয়পত্রের সুদহার ওঠানামা করবে।