দেশের বিভিন্ন সময়ে ক্রান্তিকালে ক্রাইম রিপোর্টাররা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তারা বড় বড় অপরাধের প্রতিবেদন প্রকাশ করে জাতিকে জানিয়েছে এবং সচেতন করেছে। বিষয়গুলো জানিয়ে সরকারকে জবাবদিহিতার মুখোমুখি করেছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় সেগুনবাগিচাস্থ বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) আয়োজিত ইফতার মাহফিলে বক্তারা এসব কথা বলেন। ইফতার মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন ক্র্যাব সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ক্র্যাব সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ্।
এনজেড টেক্স গ্রুপ-ক্র্যাব ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে ক্র্যাবের উদ্যোগে কোরআন তিলাওয়াত, হামদ ও নাত প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। ক্র্যাব সদস্যদের সন্তানদের মধ্যে গত ১৮ মার্চ প্রতিযোগীতায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২০ জন অংশ নেন।
এ সময় বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। তিনি বলেন, ভিন্ন মত সব সময় গণতন্ত্রের ধারা বয়ে বেড়ায়। গণতন্ত্রের ধারা অব্যহত রাখতে সাংবাদিকদের অবদান অনেক। গত ১৫-১৬ বছর অন্য সাংবাদিকরা যে কাজগুলো সরকারের চাপে করতে পারতো না সেই কাজগুলো ক্রাইম রিপোর্টাররা করেছেন। সেই সময়ে ক্রাইম রিপোর্টারদের অনেক অবদান ছিল। আবরার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্রাইম রিপোর্টারদের অনেক অবদান ছিল, সাগর-রুনী হতাকাণ্ডের খুব কাছাকাছি গিয়ে অনেক তথ্য সংগ্রহ করে ক্রাইম রিপোর্টাররা প্রকাশ করেছে, সেসব আমরা দেখেছি। গুলশানে বালুর ট্রাক দিয়ে কীভাবে বেগম খালেদা জিয়াকে আটকে রাখা হয়েছিল সেখানে ক্রাইম রিপোর্টারদের ভূমিকা অনেক ছিল। বর্তমানে পরিবর্তিত পরিস্থিতেও সেই ধারা ক্রাইম রিপোর্টাররা অব্যাহত রেখে চলেছে।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, আওয়ামী লীগে আমলে যেভাবে সংগঠনগুলোকে দলীয়করণ করা হয়েছিল বর্তমানে ক্রাইম রিপোর্টার ভাইদের কাছে অনুরোধ আপনাদের পেশা, মর্যাদা এবং অধিকার আদায়ে শক্ত হয়ে দাঁড়ান। আপনারা কারো কাছে মাথা নত করবেন না। সাংবাদিকদের কাছে সবাই মাথানত করবে। বাংলাদেশে অনেক সাংবাদিক রাজনীতিবিদকে তৈরি করেছেন। অনেক রাজনীতিবিদ সাংবাদিকদের আশীর্বাদে তৈরি হয়েছে। বর্তমান রাজনীতিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহবায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব বলেন, যারা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করবে তাদের নিরাপত্তা এবং তাদের বিরুদ্ধে যাতে ফৌজদারি মামলা না হয় বিষয়টি যেনো সংস্কার কমিশনে রাখার ব্যবস্থা করা হয়।
জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ এর ঢাকা মহানগর কমিটির সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ক্রাইম রিপোর্টাররা সাহসী। তাদের লেখনীতে বিগত সময়ে নানা অসঙ্গতি উঠে এসেছে।
এবি পার্টির ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ক্র্যাবের সদস্যদের বিগত জুলাই আন্দোলনের সময়কার ত্যাগের কথা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূইয়া, আমার বাংলাদেশ পার্টি-এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) এর সভাপতি আবু সালেহ আকন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, ভারতীয় হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি (রাজনৈতিক, গণমাধ্যম ও তথ্য) গোকুল ভি. কে, পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) ইনামুল হক সাগর, র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্ণেল আশিকুর রহমান, পুলিশ দপ্তরের তথ্য অফিসার এ কে এম কামরুল আহছান, বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম, ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের ডিসি মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।
অনুষ্ঠানে ক্র্যাবের সহ-সভাপতি উমর ফারুক আল হাদী, যুগ্ম সম্পাদক নিয়াজ আহম্মেদ লাবু, অর্থ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ মাহমুদ খান, দপ্তর সম্পাদক ওয়াসিম সিদ্দিকী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নিহাল হাসনাইন, ক্রীড়া ও সাংস্কুতিক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম মানিক, প্রশিক্ষণ ও তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক জসীম উদ্দীন, আইন ও কল্যাণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, আর্ন্তজাতিক সম্পাদক হাবিবুল্লাহ মিজান, কার্যনির্বাহী সদস্য ইমরান রহমান এবং মোহাম্মদ জাকারিয়া উপস্থিত ছিলেন।
বিডি প্রতিদিন/নাজমুল