আমাদের সমাজে এমন অনেক দেশপ্রেমিক রয়েছেন যারা অনেকটাই আড়ালে থেকে কাজ করে চলেছেন। ঠিক তেমনই রয়েছে কিছু সংস্থা বা সংগঠনও। তারাও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সমাজের জন্য ভালো কাজ করে চলেছে। দীর্ঘ পাঁচ যুগেরও বেশি সময় ধরে নারায়ণগঞ্জজুড়ে জ্ঞান ছড়িয়ে যাচ্ছে সুধীজন পাঠাগার। নানা কাঠখড় পুড়িয়ে বর্তমানে শহরের নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাব সংলগ্ন একটি ভবনের তৃতীয়তলায় এ পাঠাগারটির অবস্থান। নারায়ণগঞ্জ ছাড়িয়ে তাদের এ ভালো কাজের কীর্তি এখন বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে।
তাদের রয়েছে প্রায় ৪০ হাজার বইয়ের সমাহার। প্রতিদিন দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে শুরু করে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষজন এসে এখান থেকে জ্ঞান আহরণ করে থাকেন। কোনো পাঠক এসে তাদের চাহিদা অনুযায়ী বই না পেলে পরবর্তীতে তার জন্য বই ক্রয় হলেও পড়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়। অথবা পাঠককেই বলে দেওয়া হয়, বই ক্রয় করে নিয়ে আসার জন্য এবং পরবর্তীতে তাকে পাঠাগার থেকে টাকা পরিশোধ করা হয়। ১৯৬৪ সালে স্বল্প পুঁজি নিয়ে শহরের আমলাপাড়া এলাকার ১৬ হরকান্ত ব্যানার্জি রোডের রহমত উল্লাহ হাজির মালিকানাধীন রজনি নিবাসের একটি ছোট্ট ঘরে শুরু হয় এই পাঠাগারের পথচলা।
পাঠাগারের প্রবেশ দ্বার থেকে শুরু করে পাঠাগার অধিকাংশ জায়গাজুড়ে বইয়ের সমাহার। পাঠাগারের পরিচালক আলামীন বলেন, বর্তমানে সুধীজন পাঠাগারে গল্প, কবিতা, সাহিত্য, ভ্রমণ কাহিনি, জীবনী, ধর্মীয়, সায়েন্স ফিকশন, কিশোর কিলার, খেলাধুলা, চলচ্চিত্র ও সাধারণ জ্ঞানের সহ বই রয়েছে ৫০ হাজার। এর মধ্যে মোট বাংলা বই রয়েছে ৩০ হাজার। আর ইংরেজি বই রয়েছে ১০ হাজার।
পাঠাগারের পরিচালক আলামীন বলেন, সুধীজন পাঠাগারের রয়েছে নিজস্ব কিছু প্রকাশনা। এ পর্যন্ত পাঠাগারের উদ্যোগে প্রকাশিত হয়েছে তিনটি বই। যেগুলোতে উঠে এসেছে নারায়ণগঞ্জের ইতিহাস-ঐতিহ্য। ১৯৮৫ সালে ২৬ মার্চ প্রকাশিত হয় নারায়ণগঞ্জের ইতিহাস, ১৯৯৪ সালে ড. করুণাময় গোস্বামীর সম্পাদনায় ও এ কে এম শামসুজ্জোহা ফাউন্ডেশনের অর্থ সাহায্যে প্রকাশিত হয় ‘বাংলা সংস্কৃতির শতবর্ষ, ২০০৫ সালে ৩১ জুলাই ‘অধ্যক্ষ খগেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী’ স্মারক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। এরপর ২০১৭ সালে ১ জুন নারায়ণগঞ্জের ইতিহাস বইটি পুনঃমুদ্রিত হয়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারের লাইব্রেরিয়ান দেবাশীষ ভদ্র বলেন, নারায়ণগঞ্জের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী পাঠাগার হচ্ছে সুধীজন পাঠাগার। তারা পাঠকদের চাহিদা পূরণের চেষ্টা করে থাকে।
বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ/ বিজ্ঞাপন বার্তা