রাজধানী ঢাকার পুরানা পল্টনমোড় ও জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন ঐতিহাসিক মুক্তাঙ্গন অবৈধ দখলমুক্ত করার আবেদন জানিয়েছে এলাকাবাসী। সম্প্রতি স্থানীয় বাসিন্দা জামাল উদ্দিন ঢাকার জেলা প্রশাসক বরাবরে এ আবেদন জানান।
গত ১০ ফ্রেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসকের কাছে দাখিল করা ওই আবেদনে জানানো হয় মরমি শিল্পী আব্বাস উদ্দিনের দান করা জমি ঐতিহাসিক মক্তাঙ্গন এক সময় ছিল গণতন্ত্রের আতুর ঘড়। পতিত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে তৎকালীন ঢাকা দক্ষিণ সিটি মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস অবৈধভাবে সেখানে সিটি কর্পোরেশনের ময়লার ভাগাড় তথা সেকেন্ডারী ট্রান্সফার স্টেশন (এস টি এস) নির্মাণ করেন। সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি মুক্তাঙ্গনের জমি বিভিন্ন শ্রেণি গোষ্ঠি অবৈধ দখল করে রেখেছে। এলাকাবাসী মুক্তাঙ্গন থেকে ময়লার ভাগাড় উচ্ছেদসহ অবৈধ দখল মুক্ত করে মুক্তাঙ্গনকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ঢাকা ডিসির কাছে আবেদন জানায়।
ডিসির কাছে আবেদনে জামাল উদ্দিন বলেন, রাজধানীর পুরানা পল্টন, জিরো পয়েন্ট বাংলাদেশ সচিবালয় এবং জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম পুরানা পল্টন পুলিশ বক্স, ঐতিহাসিক মেট্টোরেল স্টেশন সংলগ্ন ঐতিহাসিক মুক্তাঙ্গনের অবস্থান। মুক্তাঙ্গন এবং বাংলাদেশ সচিবালয়ের মাঝখানের জনগণের চলাচলের রাস্তা দিয়ে দৈনিক হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। ঐতিহাসিক মুক্তাঙ্গনের পশ্চিম পাশের বাংলাদেশ সচিবালয়ের অবস্থান। পশ্চিমে সোনালী ব্যাংক পিএলসি ও পুলিশ বক্স উত্তর পশ্চিম কর্নারে মেট্টোরেলের স্টেশন অবস্থিত। পূর্ব দক্ষিণ পাশের জাতীয় ডাক বিভাগের প্রধান কার্যালয় (জিপিও) এবং পূর্ব পাশের বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য বায়তুল মোকারম জাতীয় মসিজদ এবং ইসলামী ফাউন্ডেশনের অবস্থান মুক্তাঙ্গনের উত্তর পাশের সরকারী হিসাব নিয়ন্ত্রকের ও ভূমি রাজস্বের কার্যালয়, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ব্যাংক এশিয়াসহ অসংখ্য জাতীয় পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানের ভবন ও অফিসের অবস্থান।
বাংলাদেশ সৃষ্টির পূর্ব থেকেই ঐতিহাসিক মুক্তাঙ্গনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের যে কোন মিছিল মিটিংয়ের জন্য মুক্তাঙ্গনকেই ব্যবহার করতো। রাজনৈতিক দলের মিটিং মিছিল মুক্তাঙ্গনের খালি জায়গায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কারণে চলাচলের রাস্তায় যানঝট সৃষ্টি হতো না। ফলে মিটিং মিছিলের কারণে জনদুর্ভোগ সুষ্টি হতো না। বর্তমানে মুক্তাঙ্গনটি দখল হয়ে যাওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলো তাদের গণতান্ত্রিক দাবি আদায় করার জন্য পুরানা পল্টন মোড় এবং জিপিও মোড়ে বাংলাদেশ সচিবালয়ের সামনে রাস্তার উপর মিটিং মিছিল করে থাকেন। এতে করে রাস্তায় যানঝট সৃষ্টি হয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। রাজনৈতিক দলগুলো রাস্তায় মিটিং মিছিল করার কারণে সচিবালয়ে ও কর্মের পরিবেশ বিনষ্ট হয়।
বিডি প্রতিদিন/আরাফাত