► পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে অভিযান চলছে প্রত্যেক উপজেলায়। খরব পেলেই ছুটে যাচ্ছেন প্রশাসনের র্কমকর্তারা
খাগড়াছড়ির নয়টি উপজেলায়ই চলছে পাহাড় কাটার মহোৎসব। পৌর শহর ও সদর উপজেলার শালবন, কুমিরা টিলা, সবুজবাগ, পেরাছড়া, গোলাবাড়ী, বুয়াছড়ি এলকায় একশ্রেণির দখলবাজ অবাধে পাহাড় কেটে সাবাড় করছে। শ্রেণি পরিবর্তন করে নানা কৌশলে পাহাড়ের জমি বিক্রিরও অভিযোগ রয়েছে। খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক এ বি এম ইফতেকার ইসলাম খন্দকার জানান, পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে অভিযান চলছে প্রতি উপজেলায়। খবর পেলেই ছুটে যাচ্ছেন প্রশাসনের র্কমর্কতারা। অভিযোগ আছে-খাগড়াছড়ি সদর, দীঘিনালা, মাটিরাঙা, পানছড়ি, মহালছড়ি, গুইমারা, রামগড়, মানিকছড়ি, লক্ষ্মীছড়িসহ প্রতিটি উপজেলায় দিনে রাতে পাহাড়ের মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে একাধিকবার অভিযান চালিয়ে জেল-জরিমানাও করেছে প্রশাসন এবং পরিবেশ অধিদপ্তর। তবু বন্ধ হয়নি পাহাড় কাটা। খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মারুফ বলেন, ‘আমরা পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে রয়েছি। খবর পেলেই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জেল-জরিমানা করছি। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’ দীঘিনালা ইউএনও মামুনুর রশীদ বলেন, ‘ইতোমধ্যে পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করেছে প্রশাসন। ভবিষ্যতেও অভিযান চলবে।’ পাহাড়খেকোদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান এ কর্মকর্তা। ‘পিটাছড়া বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ উদ্যোগ’-এর প্রতিষ্ঠতা মাহফুজ রাসেল বলেন, ‘আধুনিক এ যুগে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে পাহাড় না কেটেও উন্নয়ন করা যায়। পাহাড় কাটার কারণে ঘন ঘন বন্যা হচ্ছে। এটা বন্ধ করতে না পারলে পরিবেশগত বিপর্যয় হবে।’ পরিবেশ অধিদপ্তর খাগড়াছড়ির সহকারী পরিচালক হাসান আহমদ বলেন, ‘পাহাড় কাটা বন্ধে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি কাজ করছে পরিবেশ অধিদপ্তর।’ পার্বত্য এলাকায় পাহাড় কাটা বন্ধের বিষয়টিকে অধিকতর গুরুত্ব দেওয়া হবে জানিয়েছেন তিনি। খাগড়াছড়ি পৌর প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, ‘আমরা পাহাড় কাটার খবর পেলেই ছুটে যাচ্ছি। এ ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’ জানা যায়, শুষ্ক মৌসুম এলেই খাগড়াছড়িতে শুরু হয় পাহাড় কাটা। জমি ভরাটসহ বিভিন্ন কাজের জন্য প্রকাশ্যে ও রাতের আঁধারে কাটা হয় পাহাড়ের মাটি। অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কাটায় বর্ষায় পাদদেশে বসবাসকারীরা থাকেন আতঙ্কে। প্রচলিত আইন অমান্য করে পাহাড় কাটায় ক্ষোভ জানিয়েছেন তারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, পাহাড় কেটে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করা হচ্ছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে পরিবেশের ওপর। তা ছাড়া বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধসের আশঙ্কায় রয়েছেন তারা।